প্রচ্ছদ > খেলা > ফুটবল

জার্মানির ম্যাচে হিটলারের চেহারার সমর্থক?

article-img

বিশ্বকাপে জার্মানির প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় ছাপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মনোযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিষয়ে। স্টেডিয়ামের ভেতরে জার্মানির জার্সি গায়ে পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক দর্শকের ছবিতে আটকে যায় তাদের চোখ। এই সমর্থকের চেহারার সঙ্গে তো আডলফ হিটলারের চেহারার খুব মিল!

কয়েক মুহূর্তেই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি, দেখা হয় লক্ষ লক্ষ বার। শুধু এক্স-এ-ই সেই ছবিসম্বলিত পোস্ট দেখা হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি বার। ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি লাইক পড়েছে ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে। ফেসবুকে স্প্যানিশ এবং থ্রেডস-এ রাশিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষায় আলোচনা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে।

কিছু পোস্টে জার্মানিবিরোধী মনোভাবও লক্ষ্য করা গেছে। যেমন রেডিট-এর একটি পোস্টে ব্যঙ্গ করে লেখা হয়েছে, ‘নিজের দলকে সমর্থন জানাতে আসা দর্শকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার।’ তবে এত ভিউ, লাইক কামানো, এত আলোচনার জন্ম দেয়া ছবিটি কিন্তু আসল নয়।

আসল ছবির সন্ধান

দেখে মনে হয় হিটলারের মতো চেহারার ওই ব্যক্তির ছবিটা ম্যাচের টেলিভিশন-সম্প্রচার থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট। কারণ, ছবিতে প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমের টাইমস্ট্যাম্প দেখা যাচ্ছে।

তার একটু আগেই কাই হাভার্টজ পেনাল্টি থেকে গোল করে জার্মানিকে ৩-১-এ এগিয়ে নিয়েছেন। স্বাভাবিক কারণেই জার্মানির সমর্থকরা তখন মহানন্দে।

তবে টেলিভিশনে ওই সময়ের মূল সম্প্রচারটি পর্যালোচনা করে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, হাভার্টজের গোলের পর গ্যালারিতে ছবির ওই দর্শকরাই আনন্দ উদযাপন করছেন, কিন্তু তাদের মাঝে হিটলারের মতো চেহারার লোকটি নেই। বরং মূল ফুটেজে তার জায়গায় দেখা যাচ্ছে ধূসর চুলের এক ব্যক্তিকে এবং সেই ব্যক্তির সঙ্গে হিটলারের চেহারার সামান্যতম মিলও নেই।

ছবি দুটি দেখলে পার্থক্যগুলো আপনিও বুঝতে পারবেন। ভালো করে দেখলেই বুঝবেন, একটি হলো আসল সম্প্রচার (এই ক্ষেত্রে আসল ছবিটি জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার এআরডি-র) আর অন্যটি এআই-এর সহায়তায় সম্পাদিত। বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর সময় আয়োজক সংস্থা সবসময় অফিশিয়াল ব্রডকাস্ট করে অংশীদার সম্প্রচারকদের মাঝে ‘সেন্ট্রাল ফিড’ হিসেবে বিতরণ করে।

এর ফলে সব চ্যানেলে মূল ছবিগুলো একই থাকে। শুধু বিশেষ কিছু চ্যানেলের জন্য সামান্য কিছু উপাদান কাস্টমাইজ করা হয়। এ ছবির বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের আরেকটি উপায় হতে পারে স্বীকৃত ফটো এজেন্সিগুলোর ছবি পরীক্ষা করে দেখা। এক্ষেত্রে ডিডাব্লিউ বেছে নিয়েছিল বার্লিনভিত্তিক এজেন্সি ইমাগো-কে। তাদের তোলা ছবিতে গ্যালারির একই অংশে কিন্তু হিটলারের কোনো ‘লুক-অ্যালাইক’ নেই।

অল্প সময়ে বহুল প্রচারিত ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের পরবর্তী ধাপ, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)) ব্যবহার করে করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা। এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে বেশ কিছু এআই চ্যাটবট৷ সেগুলোর মাধ্যমে কোনো ছবি তৈরি বা পরিবর্তনের কাজে তাদের সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা খুব সহজেই যাচাই করা যায়। এসব চ্যাটবটের মাধ্যমে যাচাই করা সহজ, কারণ, এই ধরনের টুলগুলো ছবিতে একটি ডিজিটাল জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) যুক্ত করে। সেই জলছাপ খালি চোখে দেখা যায় না, তবে ওসব টুল ব্যবহার করলে অনায়াসেই তা শনাক্ত করা যায়।